পাইলস (Hemorrhoids) একটি সাধারণ রোগ হলেও সব রোগীর অপারেশন প্রয়োজন হয় না। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, জীবনযাত্রার উন্নতি এবং ওষুধে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তবে কিছু পরিস্থিতিতে চিকিৎসক সার্জারি বা অন্যান্য প্রক্রিয়া বিবেচনা করতে পারেন।
এই লেখায় আলোচনা করা হয়েছে—কখন অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে, কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং রোগীদের কী জানা উচিত।
সব পাইলস রোগীর কি অপারেশন লাগে?
না।
চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে—
- রোগের পর্যায়
- উপসর্গের তীব্রতা
- রক্তপাতের পরিমাণ
- মলদ্বার দিয়ে পাইলস বের হয় কিনা
- রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা
অনেক ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই চিকিৎসা সম্ভব।
কোন পরিস্থিতিতে অপারেশন বিবেচনা করা হতে পারে?
১. বারবার রক্তপাত
দীর্ঘদিন বা ঘন ঘন রক্তপাত হলে চিকিৎসক রোগের কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন।
২. পাইলস বাইরে বের হয়ে আসা
যদি মলত্যাগের সময় পাইলস বের হয়ে আসে এবং পরে নিজে থেকে বা হাত দিয়ে ভেতরে নিতে হয়, তাহলে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
৩. ওষুধে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ না হওয়া
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও ওষুধের পরও যদি উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে চিকিৎসক অন্য চিকিৎসা পদ্ধতি বিবেচনা করতে পারেন।
৪. তীব্র ব্যথা
বিশেষ করে বাহ্যিক পাইলস বা রক্ত জমাট বাঁধা (Thrombosed Hemorrhoid) অবস্থায় তীব্র ব্যথা হতে পারে।
৫. দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়া
যদি ব্যথা, রক্তপাত বা অস্বস্তির কারণে কাজ, পড়াশোনা বা স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে চিকিৎসা পরিকল্পনা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
পাইলসের কোন পর্যায়ে সার্জারির কথা ভাবা হয়?
পাইলস সাধারণত বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করা হয়। রোগের অবস্থা মূল্যায়ন করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন কোন চিকিৎসা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।
রোগীভেদে চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে, তাই নিজে থেকে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
পাইলস অপারেশনের সম্ভাব্য পদ্ধতি
রোগের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে—
- প্রচলিত সার্জিক্যাল পদ্ধতি
- লেজার প্রযুক্তি (নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে)
- অন্যান্য আধুনিক পদ্ধতি
কোন পদ্ধতি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে, তা বিশেষজ্ঞ সার্জন পরীক্ষা করে নির্ধারণ করবেন।
লেজার পাইলস চিকিৎসা সম্পর্কে
বর্তমানে নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
এর সম্ভাব্য সুবিধার মধ্যে থাকতে পারে—
- তুলনামূলক কম রক্তপাত
- কম টিস্যু ক্ষতি
- অপারেশনের পর তুলনামূলক কম ব্যথা
- দ্রুত দৈনন্দিন জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ
দ্রষ্টব্য: সব রোগীর জন্য লেজার চিকিৎসা উপযুক্ত নয়। রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা নির্বাচন করা হয়।
অপারেশনের আগে কী কী পরীক্ষা লাগতে পারে?
রোগীর বয়স, উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক প্রয়োজনে বিভিন্ন পরীক্ষা পরামর্শ দিতে পারেন।
এর উদ্দেশ্য হলো সঠিক রোগ নির্ণয় এবং নিরাপদ চিকিৎসা পরিকল্পনা করা।
অপারেশনের পর কী করণীয়?
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী—
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- আঁশযুক্ত খাবার খান।
- কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলুন।
- নির্ধারিত ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ করুন।
- ফলো-আপ ভিজিটে উপস্থিত থাকুন।
কখন জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনোটি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন—
- অতিরিক্ত রক্তপাত
- অসহনীয় ব্যথা
- জ্বর
- পুঁজ বের হওয়া
- মলদ্বারে তীব্র ফোলা
এসব লক্ষণ অন্য রোগের কারণেও হতে পারে, তাই দ্রুত মূল্যায়ন জরুরি।
FAQ
পাইলস অপারেশন কি খুব কষ্টের?
ব্যথার অভিজ্ঞতা ব্যক্তি ও ব্যবহৃত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। বর্তমান চিকিৎসায় ব্যথা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।
লেজার অপারেশন কি সব রোগীর জন্য করা যায়?
না। রোগের ধরন, অবস্থান এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।
অপারেশন না করলে কী হতে পারে?
সব রোগীর ক্ষেত্রে একই রকম হয় না। তবে দীর্ঘদিন উপসর্গ থাকলে রক্তপাত, অস্বস্তি বা অন্যান্য জটিলতা বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অপারেশনের পর আবার পাইলস হতে পারে?
চিকিৎসার পরও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্যান্য ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ভবিষ্যতে আবার সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিনঃ
ডা. এইচ. এন. এম. শফিকুজ্জামান
- এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
- এফসিপিএস (সার্জারী), এফএসিএস (আমেরিকা)
- এডভান্স ট্রেনিং ইন কোলোরেক্টাল এন্ড লেজার সার্জারী
- বিশেষজ্ঞঃ পাইলস, ফিসার, ফিস্টুলা, লেজার, কোলোরেক্টাল এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন
- সহযোগী অধ্যাপক, সার্জারী বিভাগ
- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━
রাজশাহী চেম্বার
হাই-টেক স্পেশালাইজড হসপিটাল
৭২-৭৩ কাজিহাটা, লক্ষীপুর, রাজশাহী
লেভেল ২, রুম নং: ২০৬ ( লিফটের ২)
চেম্বার সময়
রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার
দুপুর ৩:৩০ টা – সন্ধ্যা ৮:০০ টা
সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ
০১৮৫৮-২১৮৫৯৫
০১৭১২-৯৩৪৭৩৯
━━━━━━━━━━━━━━━━━━
নাটোর চেম্বার
ল্যাবমেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার
(ডা. সালমা আক্তারের চেম্বার), বড় হরিশপুর, নাটোর
চেম্বার সময়
শনিবার ও বুধবার
বিকাল ৩:০০ টা – সন্ধ্যা ৬:০০ টা
শুক্রবার
সকাল ৮:৩০ টা – বিকাল ৩:০০ টা
সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ
০১৭৬৭-৪০৫৩৮০
০১৮৫৬-৪৪১২৮৬