পাইলসের ১০টি লক্ষণ | কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
পাইলসের ১০টি লক্ষণ অনেকেই প্রথম দিকে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগটি ধীরে ধীরে জটিল হয়ে ওঠে এবং অনেক ক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত হলে ও সঠিক চিকিৎসা নিলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
এই লেখায় পাইলসের ১০টি লক্ষণ, কারণ, কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন এবং আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
পাইলস কী?
পাইলস হলো মলদ্বার বা রেকটামের নিচের অংশের শিরা ফুলে যাওয়া। এটি অভ্যন্তরীণ (Internal) অথবা বাহ্যিক (External) হতে পারে।
পাইলসের ১০টি লক্ষণ:
১. মলত্যাগের সময় রক্তপাত
পাইলসের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো মলত্যাগের সময় টাটকা লাল রক্ত পড়া।
রক্ত দেখা যেতে পারে—
- টয়লেট প্যানে
- টিস্যুতে
- মলের উপর
⚠️ তবে মনে রাখবেন, সব রক্তপাতই পাইলসের কারণে হয় না। কোলন বা মলদ্বারের অন্যান্য রোগেও রক্তপাত হতে পারে। তাই নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. মলদ্বারে ব্যথা
বিশেষ করে বাহ্যিক পাইলস বা রক্ত জমাট বাঁধা (Thrombosed) পাইলসে ব্যথা বেশি হতে পারে।
ব্যথা সাধারণত—
- বসলে বাড়ে
- মলত্যাগের সময় বাড়ে
- দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে অস্বস্তি হয়
৩. মলদ্বারে চুলকানি
পাইলসের কারণে মলদ্বারের চারপাশে জ্বালাপোড়া ও চুলকানি হতে পারে।
অনেক রোগী এটিকে সাধারণ ত্বকের সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন।
৪. মাংসপিণ্ড বের হওয়া
মলত্যাগের সময় ছোট একটি মাংসপিণ্ড বের হয়ে আসতে পারে।
প্রথম দিকে এটি নিজে থেকেই ভেতরে চলে যায়।
পরবর্তীতে হাত দিয়ে ভেতরে ঢোকাতে হতে পারে।
৫. বসতে অস্বস্তি
অনেক রোগী দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করতে পারেন না।
বিশেষ করে—
- অফিসে
- গাড়িতে
- মোটরসাইকেলে
বসলে অস্বস্তি বা চাপ অনুভূত হতে পারে।
৬. মলত্যাগের পরও অসম্পূর্ণ অনুভূতি
মলত্যাগ শেষ হওয়ার পরও মনে হতে পারে পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি।
এই অনুভূতি দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করা উচিত।
৭. মলদ্বারে ফোলা
মলদ্বারের চারপাশে ফুলে যাওয়া বা শক্ত গিঁটের মতো অনুভব হতে পারে।
এটি বাহ্যিক পাইলসের লক্ষণ হতে পারে।
৮. শ্লেষ্মা (Mucus) বের হওয়া
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মলের সঙ্গে শ্লেষ্মা বের হতে পারে।
এর ফলে চুলকানি ও অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।
৯. কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে উপসর্গ বৃদ্ধি
দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে পাইলসের উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।
যেমন—
- বেশি ব্যথা
- বেশি রক্তপাত
- বেশি চাপ অনুভব
১০. বারবার একই সমস্যা হওয়া
কিছুদিন ওষুধ খাওয়ার পর ভালো হলেও আবার একই সমস্যা ফিরে আসে।
এ ধরনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- বারবার রক্তপাত
- তীব্র ব্যথা
- মাংসপিণ্ড বের হয়ে আসা
- দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য
- ওজন কমে যাওয়া
- পরিবারের কারও কোলন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে
- ৪০ বছরের বেশি বয়সে নতুন করে রক্তপাত শুরু হলে
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
বিশেষজ্ঞ সার্জন রোগীর ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে অন্যান্য পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কিছু পরীক্ষা লাগতে পারে।
চিকিৎসার উপায়
রোগের ধরন ও মাত্রার ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে।
প্রয়োজন অনুযায়ী হতে পারে—
- খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন
- আঁশযুক্ত খাবার
- পর্যাপ্ত পানি পান
- ওষুধ
- লেজার চিকিৎসা
- অন্যান্য সার্জিক্যাল পদ্ধতি
লেজার চিকিৎসার সম্ভাব্য সুবিধা
নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসায় অনেক সময়—
- কাটাছেঁড়া বিহীন
- রক্তপাত বিহীন
- ব্যথা্মুক্ত
- সংক্রমণের ঝুঁকি কম
- দ্রুত সুস্থ হওয়া
- স্বাভাবিক জীবনে দ্রুত ফেরা
কীভাবে পাইলস প্রতিরোধ করবেন?
- প্রতিদিন ২–৩ লিটার পানি পান করুন।
- শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খান।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
- মলত্যাগের বেগ চেপে রাখবেন না।
- দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকবেন না।
- কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা করুন।
FAQ
পাইলসের প্রথম লক্ষণ কী?
অনেকের ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণ হিসেবে মলত্যাগের সময় টাটকা লাল রক্ত দেখা যায়, তবে সবার ক্ষেত্রে একই লক্ষণ নাও হতে পারে।
পাইলস কি নিজে নিজে ভালো হয়ে যায়?
হালকা উপসর্গ কমতে পারে, কিন্তু দীর্ঘদিনের বা জটিল পাইলসের ক্ষেত্রে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
রক্তপাত মানেই কি পাইলস?
না। রক্তপাতের আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পাইলস হলে কি অপারেশন করতেই হবে?
না। রোগের পর্যায় অনুযায়ী ওষুধ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন বা বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা হতে পারে। অপারেশন সব রোগীর জন্য প্রয়োজন হয় না।
উপসংহার
পাইলসের ১০টি লক্ষণ দেখা মাত্রই ডাক্তার এর পরামর্শ নিন। পাইলসের ১০টি লক্ষণ গুলো দ্রুত চিনতে পারলে এবং সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, ব্যথা বা মাংসপিণ্ড বের হওয়ার মতো উপসর্গকে কখনোই অবহেলা করবেন না।
পাইলস সম্পর্কে আরও জানতে NHS-এর অফিসিয়াল গাইড দেখুন।
রাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
ডা. এইচ. এন. এম. শফিকুজ্জামান
- এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
- এফসিপিএস (সার্জারী), এফএসিএস (আমেরিকা)
- এডভান্স ট্রেনিং ইন কোলোরেক্টাল এন্ড লেজার সার্জারী
- বিশেষজ্ঞঃ পাইলস, ফিসার, ফিস্টুলা, লেজার, কোলোরেক্টাল এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন
- সহযোগী অধ্যাপক, সার্জারী বিভাগ
- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━
🏥 রাজশাহী চেম্বার
📍 হাই-টেক স্পেশালাইজড হসপিটাল
📌 ৭২-৭৩ কাজিহাটা, লক্ষীপুর, রাজশাহী
📍লেভেল ২, রুম নং: ২০৬ ( লিফটের ২)
🗓️ চেম্বার সময়
🔹 রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার
🕒 দুপুর ৩:৩০ টা – সন্ধ্যা ৮:০০ টা
📞 সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ
☎️ ০১৮৫৮-২১৮৫৯৫
☎️ ০১৭১২-৯৩৪৭৩৯
━━━━━━━━━━━━━━━━━━
🏥 নাটোর চেম্বার
📍 ল্যাবমেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার
📌 (ডা. সালমা আক্তারের চেম্বার), বড় হরিশপুর, নাটোর
🗓️ চেম্বার সময়
🔹 শনিবার ও বুধবার
🕒 বিকাল ৩:০০ টা – সন্ধ্যা ৬:০০ টা
🔹 শুক্রবার
🕣 সকাল ৮:৩০ টা – বিকাল ৩:০০ টা
📞 সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ
☎️ ০১৭৬৭-৪০৫৩৮০
☎️ ০১৮৫৬-৪৪১২৮৬