পাইলস কেন হয়?
পাইলস (Hemorrhoids) এমন একটি সাধারণ রোগ, যা নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। অনেকেই মনে করেন এটি শুধু বয়স্কদের রোগ, কিন্তু বাস্তবে তরুণদের মধ্যেও পাইলস দেখা যায়। জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু শারীরিক অবস্থার কারণে এই রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এই লেখায় আমরা জানব পাইলস কেন হয়, কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায়।
পাইলস কী?
পাইলস হলো মলদ্বার ও রেকটামের নিচের অংশের শিরাগুলো ফুলে যাওয়া। এটি অভ্যন্তরীণ (Internal) অথবা বাহ্যিক (External) হতে পারে। রোগের তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
পাইলস কেন হয়? ১০টি প্রধান কারণ
১. দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য
পাইলসের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ হলো দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা। শক্ত মল বের করতে অতিরিক্ত চাপ দিলে মলদ্বারের শিরার ওপর চাপ বাড়ে।
২. মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া
অনেকেই দীর্ঘক্ষণ চাপ দিয়ে মলত্যাগ করেন। এটি শিরাগুলোকে ফুলে যেতে সহায়তা করতে পারে।
৩. দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা
মোবাইল ফোন ব্যবহার বা দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকার অভ্যাসও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৪. কম আঁশযুক্ত খাবার
খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশ কম থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে, যা পাইলসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
৫. পর্যাপ্ত পানি না পান করা
কম পানি পান করলে মল শক্ত হতে পারে, ফলে মলত্যাগের সময় বেশি চাপ লাগে।
৬. গর্ভাবস্থা
গর্ভাবস্থায় জরায়ুর চাপ এবং হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে কিছু নারীর পাইলস হতে পারে।
৭. স্থুলতা
অতিরিক্ত ওজনের কারণে পেট ও পেলভিক অঞ্চলে চাপ বাড়তে পারে, যা পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।
৮. দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করা
অফিসে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করার সঙ্গে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাইলসের ঝুঁকি সম্পর্কিত হতে পারে।
৯. বয়স বৃদ্ধি
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মলদ্বারের টিস্যুগুলোর স্থিতিস্থাপকতা কমতে পারে, ফলে পাইলসের ঝুঁকি বাড়ে।
১০. পারিবারিক ইতিহাস
পরিবারের অন্য সদস্যদের পাইলস থাকলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
- দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন
- গর্ভবতী নারী
- অতিরিক্ত ওজন রয়েছে
- কম পানি পান করেন
- কম আঁশযুক্ত খাবার খান
- দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন
- নিয়মিত ভারী ওজন তোলেন
পাইলস প্রতিরোধের ১০টি উপায়
১. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
২. আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান।
৩. নিয়মিত হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন।
৪. মলত্যাগের বেগ চেপে রাখবেন না।
৫. দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকবেন না।
৬. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
৭. কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা করুন।
৮. অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগ করবেন না।
৯. দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকলে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটুন।
১০. প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
- মলত্যাগের সময় রক্তপাত
- মলদ্বারে তীব্র ব্যথা
- মাংসপিণ্ড বের হয়ে আসা
- বারবার একই সমস্যা হওয়া
- ওজন কমে যাওয়া বা দীর্ঘদিনের রক্তপাত
⚠️ মনে রাখবেন: মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত সব সময় পাইলসের কারণে হয় না। ফিশার, পলিপ, প্রদাহজনিত রোগ বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের মতো অন্যান্য কারণও থাকতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় জরুরি।
পাইলস হলে কি সব সময় অপারেশন লাগে?
না। রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ওষুধ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে আসে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে লেজার বা অন্যান্য সার্জিক্যাল চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
FAQ
পাইলস কেন হয়?
লক্ষণ গুল পড়ুন।
পাইলসের প্রধান কারণ কী?
দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ, কম আঁশযুক্ত খাবার এবং দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ।
বেশি ঝাল খেলে কি পাইলস হয়?
শুধু ঝাল খাবার খাওয়াই পাইলসের সরাসরি কারণ নয়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝাল খাবার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।
গর্ভাবস্থায় পাইলস হতে পারে?
হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় কিছু নারীর পাইলস হতে পারে।
পাইলস কি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব?
জি সম্ভব।
উপসংহার
পাইলস একটি সাধারণ রোগ হলেও সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তপাত বা মলদ্বারে ব্যথা হলে নিজে ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাইলস কেন হয় আরও জানতে NHS-এর অফিসিয়াল গাইড দেখুন।
রাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
ডা. এইচ. এন. এম. শফিকুজ্জামান
- এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
- এফসিপিএস (সার্জারী), এফএসিএস (আমেরিকা)
- এডভান্স ট্রেনিং ইন কোলোরেক্টাল এন্ড লেজার সার্জারী
- বিশেষজ্ঞঃ পাইলস, ফিসার, ফিস্টুলা, লেজার, কোলোরেক্টাল এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন
- সহযোগী অধ্যাপক, সার্জারী বিভাগ
- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━
🏥 রাজশাহী চেম্বার
📍 হাই-টেক স্পেশালাইজড হসপিটাল
📌 ৭২-৭৩ কাজিহাটা, লক্ষীপুর, রাজশাহী
📍লেভেল ২, রুম নং: ২০৬ ( লিফটের ২)
🗓️ চেম্বার সময়
🔹 রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার
🕒 দুপুর ৩:৩০ টা – সন্ধ্যা ৮:০০ টা
📞 সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ
☎️ ০১৮৫৮-২১৮৫৯৫
☎️ ০১৭১২-৯৩৪৭৩৯
━━━━━━━━━━━━━━━━━━
🏥 নাটোর চেম্বার
📍 ল্যাবমেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার
📌 (ডা. সালমা আক্তারের চেম্বার), বড় হরিশপুর, নাটোর
🗓️ চেম্বার সময়
🔹 শনিবার ও বুধবার
🕒 বিকাল ৩:০০ টা – সন্ধ্যা ৬:০০ টা
🔹 শুক্রবার
🕣 সকাল ৮:৩০ টা – বিকাল ৩:০০ টা
📞 সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ
☎️ ০১৭৬৭-৪০৫৩৮০
☎️ ০১৮৫৬-৪৪১২৮৬
Read More: পাইলস কী ?